কবিতা
রি হোসাইনের কবিতা – Poetries of Ri Hossain
ছাইরঙা শোক
দুচোখ ভিজে প্লাবন নামেভীষণ ব্যাকুলতায়,তোমার নামে জমানো মেঘবৃষ্টি ঝরে যায়…আকাশ জুড়ে ছাইরঙা শোকগুমরে মরে একা,বিদ্যুৎ-শিখা খোঁজে কেবলইএকটু তোমার দেখা…ভাসছে হৃদয় মেঘের ভেলায়উধাও যে কোনো দেশে,কেমন আছো সেই নগরেঅন্য কারো রেশে?একলা মেঘের দীর্ঘশ্বাসেআঁধার হয় যে বেলা,সবটুকু মেঘ ঝরিয়ে তবুও—হয় না শেষ এ খেলা…©রি হোসাইন
সাইক্লোন
এক ঝাপটা বাতাস হয়েতোমায় ছোঁয়ার পরআমার ভেতর উন্মাদনায়লণ্ডভণ্ড ঝড়…সেই ঝড়ে আজ ভেঙেছে ঘরউড়ছে স্মৃতির ধুলো,হৃদয় জুড়ে আছড়ে পড়েপুরোনো মেঘগুলো…শান্ত হওয়ার সাধ্য কোথায়?তুফান ভীষণ ভারী,তোমার জন্যেই বইছে বাতাসবসত ভিটা ছাড়ি…হৃদয় জুড়ে সাইক্লোনেরঅশান্ত এই টানে,কেমন করে শান্ত হবে—তুমি ছাড়া কে জানে?
হাহাকারের গান
মনের ভেতর গাইতেছে কিহাহাকারের গান,তুমি ছাড়া এই রাত-দিনঅশান্ত বেঈমান…স্মৃতির ধূসর ধূলিকণাজমছে বুকের বামে,লণ্ডভণ্ড ভেতর পোড়েতুমি ফেরার নামে…শূন্য ঘরে দেয়াল ঘড়িটিকটিক করে হাসে,এই আমিটা ডুবে মরিতোমার দীর্ঘশ্বাসে…©রি হোসাইন
নির্লজ্জ আগন্তুক
কে হে তুমি আগন্তুক?একলা মিছিলের একাকী ছায়া,রক্তে কি জানি দ্রোহের মায়া—পকেটে নিষিদ্ধ ইশতেহার।বুকের পাটায় অকপট প্রেম,ভাঙতে চাও মানচিত্রের কারাগার;চোখের কোটরে শোষিত কারখানা,জানো না?এখানে জোছনারাও কিস্তির দেনা।নৈঃশব্দ্যের নীলামে চড়ে আসে রাত,তোমার হৃদপিণ্ড—যেন এক নিথর ধর্মঘট।নারীটি তোমার কর্পোরেট বিছানায়,কাঁপিয়ে দিচ্ছে স্টকের ভালুক-ষাঁড়;কথা ছিল ঘাসফুল জড়ানো খোপায়—ইতিহাস হাতড়ে ফেরা স্বপ্ন-অভিসার।তাকিয়ে দেখো বিজ্ঞাপনের লাল ঠোঁট,তোমার চুম্বন চুরি হয়ে গেছে…
একা নও তুমি
একা নও তুমি এই হেরে যাওয়া পথে,যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় এসে;অনেক লড়াই বাকি আছে জেনো আজও—রাতের পরেই নতুন সূর্য হাসে।আঁধার ফুঁড়ে যে পথ গিয়েছে দূরে,সে পথেই হবে যে স্বপ্নের পথচলা;বুকের ভেতর জমানো যতটা জেদ—আরও আছে কিছু না-বলা কথা বলা।রক্তে মিশুক হার-না-মানার গান,পায়ের নিচে শক্ত থাকুক মাটি;ঘোর কালো রাত কাটবেই একদিন—ধৈর্যই হোক বিজয়ের পরিপাটি।আকাশে-বাতাসে মেলে দাও…
আমি একটা হেরে যাওয়া মহাকাল
যেখানে উৎসবের শব্দ সবচেয়ে বেশি,সেখানেই আমি এক নিভৃত নিরুদ্দেশ;উপেক্ষার ভিড়ে নিজেকে জ্বালিয়ে জ্বলি—থাকা না-থাকার এই তো খেলা শেষ।সবখানে থেকেও, আমি থাকিনা কোথাও,পূর্ণতার মাঝেও এ এক অদ্ভুত আকাল;বেঁচে থাকি রোজ, বারবার মরে গিয়েওআমি একটা হেরে যাওয়া মহাকাল।©রি হোসাইন
কেউ একজন
উৎসবে যারা মেতেছে উচ্চস্বরে,তারা কি জানে, কেউ একজন একা?সব হারানোর মিছিলে দাঁড়িয়ে আজনিজের সাথেই নিজের হয় না দেখা।নিভে আসে রোজ চেনা দুনিয়ার আলো,স্তব্ধ প্রদীপ জ্বালাচ্ছে স্মৃতির ঘর;চৈত্রের মাসের আগুনেও শীত হিম—নিজের কাছেও আমি তো অনেক পর।আড়ালে লুকাই দীর্ঘশ্বাস-হাহুতাশ,একাকীত্বের ধূসর দুনিয়া বানাই;অচেনা ভিড়েও নিজের ছায়া খুঁজি—মনটাকে শুধু আশাবাদী গান শোনাই।হারিয়েছি আমি আপন চেনা সে নাম,শুকনো পাতায়…
ইতিহাস
আমাদের কোনো অতীত নেই,আমরা চির-বর্তমানে বসবাস করি;আর কেবল ভবিষ্যৎ লিখে রাখি…আমরা মৌলিক সংখ্যার মতো—অসীমের অবিচ্ছেদ্য অংশ;যতবার একে অপরের প্রেমে পড়ি,সময়কে ভেঙেচুরে গড়ি মহাজাগতিক শূন্যতা।আমাদের কোনো গতিপথ নেই,আলো কিংবা অন্ধকার নেই;কোনো ইতিহাস নেই, কোনো বিচ্ছেদ নেই;অথচ, অমোচনীয় দূরত্বের অভিশাপে—চৌম্বকীয় সমকর্ষের মতো…আমাদের মিলন হয় না কখনো।আমাদের এই যাপনের নামই… প্রেম!এই উদযাপিত বিরহের নামই ইতিহাস।©রি হোসাইন HistoryWe have…
প্রেমের কিস্তি
তোমার থেকে ঋণ করবো উজাড় প্রেমের,শোধ দেবো কিস্তি কিস্তি সেই শর্তে।কিস্তি নিতে প্রতিদিনই আসবে তুমি আমার ঘরে…প্রতিদিনই দেখা হবে, ছলচাতুরী কথা হবে,কিছু চুম্বন ফিরিয়ে দেবো ফুল খোপাতে,দুই-একটা দিন পালাবো তোমায় উতলা করে।অশ্রুজলে সুদ বাড়াবে, করবো হিসাব চিবুক ছুঁয়ে,বুকের ঋণে জড়িয়ে যাবো অষ্টেপৃষ্ঠে।স্বপ্ন দেনায় ডুবেই যাবো তোমার প্রেমে…বোশেখ মাসে বৃষ্টি এনে দায় মেটাবো।রাজি আছি কিস্তি কিস্তি…


