কবিতা
রি হোসাইনের কবিতা – Poetries of Ri Hossain
বৃহস্পতিবার
ব্যাস্ত নির্জনতা থমকে যায় শহুরে বিকেলেশূন্যতা উথলিয়ে ঝড়ের আয়োজনদিগন্ত ঢাকা পড়ে গেছে কংক্রিট দেয়ালেঅদ্ভুত অসময়; ক্লান্ত ফেরার সময়লুটপাট হয়ে যায় বৃহস্পতিবার…এরি মাঝে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখিচোখ বুজে মনচোখ দিয়ে দেখি,গোধূলির সূর্যটা যেন লাল শাড়ি পরেদেখতেই থাকি, যেন ফিরতেছো ঘরেসাধ হয়, নাম ধরে তোমাকে ডাকার…©রি হোসাইন
বাড়ি
শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি,এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন আমাকে শুনতে হতো—তা হলো, “কোথায় তোমার বাড়ি?”আমার উত্তর ছিল একেক সময় একেকটা;কখনো বিক্রমপুর, সান্তাহার,কখনো শ্রীমঙ্গল অথবা রংপুর।শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি;ঠিকানা হারানো এই দীর্ঘ পথ চলায়—স্টেশন বদলায়, বদলায় আত্মীয়তার রঙ,বদলে যায় পরিচিত মানুষের মুখ,মানচিত্রের দাগগুলো ঝাপসা হয়ে আসে।শুধু বদলায় না চিরচেনা আঁচলের ছায়া,যেখানে…
আমাদের দেখা হয়নি
আমাদের দেখা হয়নি এখনো,একসাথে যুদ্ধে যাবার কথা ছিল;অথচ, তুমি একাই যুদ্ধে গেলে আমারই প্রতিপক্ষ হয়ে।তবুও আমাদের দেখা হয়নি এখনো,কেননা আমি যুদ্ধে যাইনি।একটি কালো বিড়াল আমার পথ আগলে রেখেছিল,টিয়াপাখির আন্দোলনের মুখে পড়েআমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি আমার অস্ত্র।আমাকে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে শিশুকাঠের গাছেরা—রোদেও যাদের ছায়া পড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো।সেখানে বাতাসের শব্দে কোনো হাহাকার নেই,আছে কেবল রোদ, বাতাস…
সমঝোতা
প্রকাশ হয়ে যাবে অন্ধকার…আমাদের ঠোঁটে লেগে থাকা নিষিদ্ধ অসুখ—মহামারির মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাবে;চলো তার আগেই লুকিয়ে ফেলি বিশুদ্ধ পাপ।পরিপাটি নগ্নতা আমাদের গ্রাস করে নেবে,পার্থিব নিয়মের বাইরে আড়াল খুঁজবে আলো;মৌনতার অজুহাতে অস্তিত্ব থমকে দাঁড়াবে—তার আগেই ভালোবেসে ফেলা ভালো।চলো তার আগেই ভালোবেসে ফেলি…চলো নগ্ন ইতিহাসের মুখোশ খুলে ফেলি।©রি হোসাইন
ভিতর
ঘর পুড়ছে, মন পুড়ছেপুড়ছে নদীর জল,অশ্রুজলে কাতর হলোআকাশ ছলছল।দাহন শেষে ছাই উড়ছেস্মৃতির আঙিনায়,পুড়ছে সময়, পুড়ছে শহরতোমার প্রতীক্ষায়।পুড়ছে স্বপ্ন, পুড়ছে আশাহৃদয় পুড়ছে একা,দগ্ধ মাটির গন্ধে মাখাএকটু তোমার দেখা।জ্বলছে দহন বুকের ভিতরনীলচে আগুনের শিখা,আড়াল হতে দেখতেছ কিআমার বিরহ-লিখা?শূন্য ঘাটে একলা নৌকাঅপেক্ষা তার সার,পুড়তে পুড়তে হচ্ছে খাকভিতরটা বারবার।
অন্তরজুড়ে
তোমাদের আছে আণবিক বোমাপেন্টাগন আর নাসা,আমাদের আছে অন্তরজুড়েমানবিক ভালোবাসা।তোমাদের হাতে মারণাস্ত্ররক্তে ভেজা মাটি,আমাদের বুকে চির অমলিনবিবেক পরিপাটি।তোমাদের আছে যান্ত্রিক সুখপাথরে গড়া প্রাণ,আমাদের আছে মাটির টানেসহজ মনের গান।তোমাদের আছে ধ্বংসের নেশাবিবেচনাহীন মন,আমাদের আছে আত্মত্যাগেমহীয়ান প্রিয়জন।শেষে দেখা যাবে তোমাদের সবহয়ে গেছে উড়ো ধুলো,বেঁচে থাকবে ভালোবাসা প্রেমমায়া-মানবতাগুলো।©রি হোসাইন
মাতাল ওড়াউড়ি
তুমি তুখোড় উড়াও ঘুড়ি,একটা স্বপ্নমাখা ঘুড়ি;তোমার ঘুড়ির আমি একটা—এক মাতাল ওড়াউড়ি।আকাশজুড়ে তোমার হাতেরনিপুণ টানের খেলা,আমি কেবল ছন্দ খুঁজিসারা বিকালবেলা।নেশার মতো আকাশজুড়েচক্রাকার ওই ঘোর,আমি তো এক অবাধ্য টান—ছিঁড়তে চাওয়া ডোর।নাটাই যখন দিচ্ছে ঝাপটাবুকের পাঁজোরজুড়ে,আমি তখন হচ্ছি যে ছাইতোমার মেঘের পুরে।উথালপাথাল হাওয়ার তোড়েউড়ে যাই দিশাহীন,তোমার মায়ায় বন্দি হয়েওআমি দুরন্ত স্বাধীন।গুটিয়ে নিও না নাটাইখানি,পর করো না ঘুড়ি;তোমার টানেই…
তোমাকে সামনে পেলে
তোমাকে সামনে পেলে,আমি কী করব?ধরে নাও ফুটপাতের চায়ের দোকানে,এক কাপ চায়ের চুমুক,হঠাৎ সামনে পড়লে তুমি…সে কি চুম্বন হয়ে যাবে তোমার ঠোঁটে?অথবা,৬ নম্বর বাসে, পেছনের সিটের এক কোণায়হাঁটু জোড়া ভাঁজ করে সামনের সিটে ঠেকিয়েঠিক বসা নয়, আটকে আছি… এমন সময়তুমি পেছনের দরজা দিয়ে উঠলে;আমি দাঁড়াতে পারব ভেঙেচুরে?কিংবাসবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে যাচ্ছি দুবাই,কাজের সন্ধানে, ফ্রি ভিসায়, রঙিন স্বপ্ন…
পুড়ে যাওয়া রোদের ছাই
যেখানেই আমি যাইতুমি বিছিয়ে রেখেছোপুড়ে যাওয়া রোদের ছাই।রুক্ষ আঙুলের স্পর্শেররূপকথাতেও এখনশূন্যতা ছাড়া কিছু নাই।তবুও সে পথে পথেঅবাধ্য অভিমানী পায়ে,কেবল তোমার দিকেই ধাই।পুড়তে পুড়তে ক্লান্তআমি ছাই ভস্ম হয়ে যাইআমার ফেরার জায়গা নাই।আপন আকাশ-বাতাসেধূসর এই মানচিত্রের গায়েআমার বসতভিটা নাই।দুঃসহ স্মৃতির বারুদেজ্বলে ওঠে একা একাকোথায় ফেরার পথটি পাই।যতদূর আমি যাইতপ্ত পথে হেঁটে হেঁটে তবুকেবলই তোমায় চাই।©রি হোসাইন


